বর্তমান যুগে ইউরিক অ্যাসিড একটি বড় সমস্যা হয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। ইউরিক অ্যাসিড এর প্রভাবে বহু মানুষ বিভিন্ন রকম রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। যেমন পায়ের গেটে ব্যথা ,কিডনিতে পাথর, শরীরের সমস্ত অঙ্গে ব্যথা হওয়া ইত্যাদি বিভিন্ন রোগ।
যদি আমরা জানতে চাই ইউরিক অ্যাসিড টা কি আসলে। ইউরিক অ্যাসিড মূলত খাবারে purines এর প্রভাবে বৃদ্ধি পায়। যদিও ইউরিক অ্যাসিড আমাদের শরীরের একটি সাধারণ উপাদান যদি সেটি 6.7 থেকে 7 এর মধ্যে থাকে । এর থেকে যদি বেড়ে যায় তবে প্রথম যে সকল উপসর্গ দেখা যায় তার মধ্যে প্রথম হচ্ছে প্রত্যেক গিঁটে গিঁটে ব্যথা হওয়া। এই জন্য একে গেঁটে বাত বলা হয়। দীর্ঘদিন যাবত ইউরিক অ্যাসিডের হলে কিডনিতে পাথর হতে পারে এবং কিডনি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন বা কিছু নিয়মাবলী মেনে চলুন।
অল্প পরিমাণ ইউরিক অ্যাসিড হলে বা ইউরিক এসিডের প্রথম স্টেজ হলে আপনি হোমিওপ্যাথি ঔষধ ব্যবহার করতে পারেন। হোমিওপ্যাথি ঔষধ এলোপ্যাথি ওষুধের তুলনায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে আরও বেশি কার্যকরী হয়ে ওঠে।
অতিরিক্ত ইউরিক এসিডে কি করবেন না
১) সামুদ্রিক মাছ খাওয়া থেকে এড়িয়ে চলবেন।
২) লাল জাতীয় মাংস যেমন খাসির মাংস ইত্যাদি মোটেও খাওয়া যাবে না।
৩) মাংসের লিভার কিডনি ইত্যাদি অর্গান খাওয়া যাবে না।
৪) মসুরের ডাল, পুঁইশাক ইত্যাদি জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না।
৫) অ্যালকোহল বা মদ কোনমতেই পান করা যাবে না। কারণ ইউরিক এসিড বৃদ্ধির অন্যতম কারণ অ্যালকোহল হতে পারে। অ্যলকোহল পানের ফলে লিভার এবং কিডনি খুব দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ইউরিক অ্যাসিড প্রচুর পরিমাণ বৃদ্ধি পায় তাই ইউরিক এসিড এ আক্রান্ত রুগী কখনোই অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় পান করা চলবে না।
৬) বাজারে প্রচলিত এনার্জি ড্রিংক যেমন string,charge,red bull এই সমস্ত খাবার একেবারেই বর্জন করতে হবে।
৭) কোনোমতেই কোল্ড্রিংস খাওয়া চলবে না।
৮) ঠান্ডা জল খাওয়া বর্জন করতে হবে।
এই সমস্ত জিনিস মেনে চললে ইউরিক এসিডকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব।
ইউরিক এসিডে কি কি করবেন
১) ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে মূল কার্যকরী জিনিসটি হল জল। প্রচুর পরিমাণ জল সেবন করুন। যত জল সেবন করবেন তত পরিমাণ ইউরিক অ্যাসিড শরীর থেকে বাহির হয়ে যাবে। তাই আজই প্রচুর পরিমাণ জল সেবন করুন।
২) ভিটামিন সি জাতীয় খাবার যেমন লেবু। লেবু সেবনের ফলে ইউরিক অ্যাসিড এর ক্রিস্টাল শরীর থেকে ভেঙে যায় এবং তার শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সুবিধা হয়।
৩) ইউরিক এসিডের ক্রিস্টাল শরীরের বিভিন্ন অংশ জমা হয় তাই আমরা বিভিন্ন অংশের ব্যথা অনুভব করি। এই সকল ক্রিস্টালকে ভাঙতে সকাল বিকাল মিনিমাম ১ ঘন্টা করে হাঁটাচলা করুন। হাঁটাচলা করলে ইউরিক এসিড শরীর থেকে দুটো বার হয়ে যায়
হাঁটাচলা সঙ্গে যদি যোগ ব্যায়াম করতে পারেন তাহলে আরো উপকার মিলে।
এই সকল জিনিসের পাশাপাশি ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং ডাক্তারের ওষুধ সেবন করুন তাতে আপনি দ্রুত ইউরিক এসিড থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
Comments
Post a Comment