ক্যান্সার কি কেনই বা হয় // What is Cancer

 






ক্যান্সার হল মূলত কোষের জেনেটিক কারণে কোষের অস্বাভাবিক বিভাজন। অর্থাৎ আমরা বলতে পারি আমাদের দেহে কিছু অস্বাভাবিক কোষ তারা কোন কারণ ছাড়াই বিভাজিত হয়ে বেড়ে যায়। যার ফলস্বরূপ সাধারণত আমরা দেখতে পাই ।একটি ক্যান্সার রোগী দেহের বিভিন্ন অংশে জায়গায় জায়গায় টিউমার সৃষ্টি করে এবং শরীরের স্বাভাবিক কার্যকলাপ গুলোকে বাধা সৃষ্টি করে ।এই টিউমার সৃষ্টি করা কোষ  গুলোকেই সাধারণত ডাক্তাররা ক্যান্সার হিসেবে চিহ্নিত করেন। 

ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে এবং কোনো রোগকেই নির্মল করতে সক্ষম হয় না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুযায়ী ক্যান্সার নিয়ে প্রচুর গবেষণা চললেও। ক্যান্সার রোগের মধ্যে আক্রান্ত প্রতি ছয় জনায় একজন ব্যক্তি মারা যায়। ক্যান্সার রোগের সঠিক চিকিৎসা আজও পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা বার করতে সক্ষম হয়নি। 

ক্যান্সার রোগের কারণ: 

🔴 রেডিয়েশন এবং আল্ট্রা ভায়োলেট রস্মি ক্যান্সার হবার অন্যতম কারণ। 

🔴 রাসায়নিক সংযোগ যেমন সিগারেট পান, মদ্যপান, একভাবে কোন ওষুধ খাওয়া, দূষিত বাতাস,সঠিক খাবার না খাওয়া ক্যান্সারের কারণ হয়ে উঠতে পারে। 

🔴 বায়োলজিক্যাল ব্যাপার যেমন কোন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, প্যারাসাইট এর কারনেও ক্যান্সার হতে পারে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুযায়ী 33 শতাংশ মানুষের ক্যান্সারে মৃত্যু হয়। মদ্যপান, ধূম্র পান, ফল শাকসবজি না খাওয়া, সঠিকভাবে ব্যায়াম না করার কারণে মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

ক্যান্সারের প্রকার:

ক্যান্সারের বিভিন্ন প্রকার হলেও।আমরা এখানে চার ধরনের ক্যান্সারের আলোচনা করব। 

1)Carcinoma: এই প্রকার ক্যান্সারটি সাধারণত চর্ম থেকে উৎপন্ন হয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং আমাদের অর্গানগুলিকে নষ্ট করে দেয়। 
2) sarcoma: এই প্রকার ক্যান্সারে মানব শরীরের সংযোগ স্থাপনকারী হাঁড়,পেশি, শিরা থেকে সৃষ্টি হয়।
3) leukaemia: বোন মের থেকে উৎপন্ন হয়ে রক্তে শ্বেত কণিকার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এবং আমাদের রক্ত আমাদের শরীরেরই ক্ষতি করতে থাকে এই প্রকার ক্যান্সারকে ব্লাড ক্যান্সার‌ও‌ বলা হয়।‌

4) lymphoma and myeloma: এই প্রকার ক্যান্সারে আমাদের শরীরে ইমিউন  সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট করে দেয় এবং আমাদের দেহ বিভিন্ন প্রকার রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।। 

এছাড়াও বিভিন্ন রকম ক্যান্সার রয়েছে যেমন হার্ট ক্যান্সার, আর ক্যান্সার বা কান ক্যান্সার, আই ক্যান্সার বা চক্ষু ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার, কিডনি ক্যান্সার, চর্ম ক্যান্সার, ইত্যাদি।

ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত রোগীর বিভিন্ন রকম চিকিৎসা করা হলেও আমরা এখানে সংক্ষেপে কিছু মূল চিকিৎসা পদ্ধতি তুলে ধরার চেষ্টা করছি। 

Surgery(শাল্য চিকিৎসা): এই প্রকার চিকিৎসা পদ্ধতিতে ডাক্তাররা চেষ্টা করে আক্রান্ত রোগীর দেহে থেকে যথাসম্ভব ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলিকে বা টিউমার গুলিকে কেটে বাদ দিয়ে দেওয়া। এই প্রকার চিকিৎসার ফলে রোগী অনেকটাই স্বস্তি লাভ করে। 

Chemotherapy: ক্যান্সার রোগের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি হল সবথেকে কার্যকরী চিকিৎসা পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে রোগীর দেহে বিশেষ রকমের টক্সিক মেডিসিন প্রবেশ করানো হয় এবং ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলিকে নির্মূল করার চেষ্টা করা হয়।

Radiation therapy: এই পদ্ধতিতে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর ক্যান্সার কোষ গুলিকে রেডিও তরঙ্গের সাহায্যে নষ্ট করা হয়।
Stem cell transparent: এই পদ্ধতিতে আক্রান্ত রোগীর বোনমেরোকে কোন সুস্থ মানুষের বোনমেরোর সাথে পরিবর্তন করা হয়। যে সকল রোগী রক্তে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত তাদের ক্ষেত্রে সাধারণত এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। 
Immunotherapy: এই পদ্ধতিতে আক্রান্ত রোগীর দেহে থাকা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে ক্যান্সার কোষের সাথে লড়াই করে স্বাভাবিকভাবে শরীরকে সুস্থ করানোর চেষ্টা করা হয়। 
এই ধরনের আরো বিভিন্ন রকমের চিকিৎসা পদ্ধতি অবলম্বন করে ডাক্তাররা ক্যান্সার রোগীকে সুস্থ করবার চেষ্টা করেন। যদিও বা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্যান্সার রোগী বাঁচানো সম্ভব হয় না ।তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম চিকিৎসা পদ্ধতি অবলম্বন করে ডাক্তাররা ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীকে সুস্থ করে ফেলেন। 
ক্যান্সার রোগ সম্বন্ধে সংক্ষেপে আপনাদেরকে একটু পরিচিত করানো হলো।



Comments

Popular posts from this blog

আসুন জানি নিমের উপকারিতা।//health benefits//benifits of neem

আসুন জানি তুলসির উপকারিতা//health benefit of Tulsi//Holi basil